ঢাকা: পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর কারসাজির সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তাদের যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসপিদের মতো কৃষি কর্মকর্তাদেরও লটারিতে বদলি করা হবে।
পেঁয়াজের বাজার নিয়ে উপদেষ্টার বক্তব্য:
কারসাজির ইঙ্গিত: উপদেষ্টা বলেন, গতকাল হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা বেড়ে গেছে। এই কারসাজির চক্রকে খুঁজে বের করতে হবে।
সংকট নেই: তিনি জানান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ প্রায় তোলা শেষ এবং মুড়িঘাটা পেঁয়াজও বাজারে আসা শুরু হয়েছে। বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই এবং বাজারে প্রচুর সরবরাহ আছে।
আমদানির সিদ্ধান্ত: দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখবে। তবে আমদানি বাড়লে কৃষকরা লোকসানে পড়তে পারেন।
আদর্শ মূল্য: পেঁয়াজের দাম ৭০ টাকার মধ্যে থাকলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই সুবিধা হবে বলে তিনি মনে করেন।
কৃষি কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা:
কঠোর ব্যবস্থা: পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর কারসাজিতে কোনো কৃষি কর্মকর্তার যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের চাকরি থাকবে না।
বদলি প্রক্রিয়া: তিনি জানান, ভবিষ্যতে এসপিদের মতো কৃষি কর্মকর্তাদেরও লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে।
আলু ও অন্যান্য কৃষি পণ্যের বিষয়ে উদ্যোগ:
আলু চাষে ভর্তুকি: কম দামের কারণে আলু চাষিদের ভোগান্তি হওয়ায় তাদের ভর্তুকি দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার।
আলুর মান উন্নয়ন: তিনি বলেন, আমাদের আলুর মান ভালো না হওয়ায় রপ্তানি কম হয়। চিপস তৈরির উপযোগী আলুর জাত উন্নয়নে গবেষণা প্রয়োজন।
সবজির বাজার: সবজির দাম বর্তমানে সহনীয় পর্যায়ে আছে। কৃষকরা যাতে লোকসানে না পড়েন (যেমন মুলা, কপি গরুকে খাওয়ানো), সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সার ও কীটনাশক প্রসঙ্গে:
সারের মজুদ: দেশে সারের কোনো অভাব নেই।
তামাক চাষে নিরুৎসাহ: তামাক উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে এবং তামাকে সার দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি: খাদ্যপণ্যে (যেমন গরুকে সার খাওয়ানো, মাছে সার দেওয়া) অতিরিক্ত সারের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাই সারের ব্যবহার কমাতে হবে।
ক্ষতিকর কীটনাশক: কয়েকটি ক্ষতিকর কীটনাশকের জাত বাজার থেকে বন্ধ করতে হবে। কীটনাশক দেওয়ার পরপরই পণ্য বাজারজাত করা ক্ষতিকর, এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।
আমনের বাম্পার ফলন: ৭০ শতাংশ পর্যন্ত আমন ধান কর্তন শেষ হয়েছে এবং তিনি আশা করছেন এবারও বাম্পার ফলন হবে।
Leave a Reply