দেশবন্ধু সংবাদদাতাঃ চট্টগ্রামে সিভিশন (CVision) নামীয় একটি কথিত লাইসেন্সবিহীন অনলাইন নিউজ পোর্টালে মানহানিকর ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের অভিযোগে শিল্প প্রতিষ্ঠান এস এ গ্রুপ ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি মানহানি মামলা দায়ের করেছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, উক্ত পোর্টালটি এস এ গ্রুপের নিকট থেকে প্রতি মাসে ৫০,০০০ টাকা বিজ্ঞাপন দাবি করে এবং বিজ্ঞাপনের নামে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে সেই সংবাদটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে বুস্টিং করে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়, যার ফলে একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এস এ গ্রুপের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান এস এ ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেড চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরাসরি বাদী হয়ে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি মানহানি মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলার নম্বর সি আর–১৫১/২০২৬, যা গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় আদালত প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির জবানবন্দী গ্রহণপূর্বক মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন। এর মধ্যে জানা যায় অনিবন্ধিত সিভিশন নামীয় এ ধরনের অনলাইন পোর্টালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ইতিমধ্যে অনেক মামলা করেছে যা বিচারাধীন।
অন্যদিকে, একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এম হোসেন এন্ড ব্রাদার্স–এর স্বত্বাধিকারী মোঃ হোসেন ও তার ভাই মোঃ নুরুল আলমের বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগে এস এ গ্রুপ পৃথক একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, একটি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বে একটি সমঝোতা ও আপস মীমাংসার চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পূর্ববর্তী সকল চেক ও রশিদ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রতারণামূলকভাবে সেই চেকগুলো ফেরত না দিয়ে প্রায় এক যুগ পূর্বের কিছু পুরনো চেক অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা ও অর্থ দাবির চেষ্টা করে। অথচ উক্ত চেকগুলোর বিপরীতে সমুদয় টাকা অনেক আগে পরিশোধ করা হয় যা ব্যাংক স্টেটমেন্ট এ স্পষ্ট প্রতিয়মান।
এছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে, উক্ত মিথ্যা মামলায় এস এ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তাহার পরিবারের সদস্যদেরকে জড়িয়ে অযথা হয়রানি ও হেনস্তার চেষ্টা করা হয়। মামলাগুলোতে কোন প্রকার ওয়ারেন্ট না থাকা সত্ত্বেও আদালতের প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে সিভিশন নামীয় কথিত অনলাইন পোর্টালে পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে এম হুসাইন এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আসামি মোঃ হোসেন এবং মো: নুরুল আলম এর বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, প্রতারণামূলকভাবে পুরনো চেক ব্যবহার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে মানহানি সংঘটিত হলে তা দণ্ডবিধি অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
Leave a Reply